বাংলা বুক রিভিউ: Intelligent Investor by Benjamin Graham


Intelligent Investor by Benjamin Graham বই রিভিউ সম্পূর্ণ বাংলায়।

The Scam 1992 ওয়েব সিরিজে আপনি এই লাইনটা তো অবশ্যই শুনেছেন যে শেয়ার মার্কেট এমন একটা কুয়া যেটা পুরো ভারতের টাকার পিপাসা কমাতে পারে। আদেও কি এই ব্যাপারটা সত্যি? আর যদি সত্যি হয় তাহলে কতই বা টাকা কমানো যেতে পারে? আপনাদের জানিয়ে রাখি, এই ব্যপারটা পুরোটাই সত্যি। আপনি যদি বুজছে অ্যানালিসিস করে সঠিকভাবে টাকা লাগে তাহলে আপনি আনলিমিটেড টাকা কমাতে পারেন। এর সব থেকে বড় উদাহরণ হল ওয়ারেন বাফেট, যিনি শুধুমাত্র হাজার ডলার নিয়ে শেয়ার মার্কেট এসেছিলেন এবং বর্তমানে পৃথিবীর সব থেকে কোটিপতি লোক এদের মধ্যে একজন। তিনি তার জীবনের পুরো অর্থ তাই শেয়ার মার্কেট থেকে কামিয়েছেন।


শেয়ার মার্কেট বিষয়ে ওয়ারেন বাফেট জানান যে তিনি যাঁর কাছ থেকে শেয়ার মার্কেট শিখেছে তিনি হলেন বেঞ্জামিন গ্রহাম। তিনি আরো বলেন তিনি আজ পর্যন্ত যত বই পড়ে দেখেছেন, তার মধ্যে সবথেকে ভালো বই হচ্ছে "দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর"। এই বইটির লেখক হলেন বেঞ্জামিন গ্রহাম। পুরো পৃথিবী জুড়ে এই বইটিকে শেয়ার মার্কেট এর বিখ্যাত বই নামে গণ্য করা হয়। আপনি যদি শেয়ার মার্কেটে বিজনেস নামতে চান তাহলে এই বইটা তো আপনাকে পড়ে দেখতেই হয়।


এই বইটা পরবর্তীতে ওয়ারেন বাফেট পুনঃ নির্মাণ করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত হিসেবে 8 নম্বর এবং 20 নম্বর অধ্যায় যুক্ত করেছেন। যেখানে তিনি পুরো বইটার মূলকথা ছোট্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আপনি যদি এই বইটা পুরোটা পড়তে না পারেন, তাহলে আপনি শুধু মাত্র 8 নম্বর এবং 20 নম্বর অধ্যায়টা পড়ে দেখতে পারেন।


এই বইটা পড়ার আগে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে আপনি ইনভেস্টিং করছেন ট্রেডিং নয়। ট্রেডিং মানে আপনি যেটা একদিন দুদিন এক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের জন্য করে থাকেন। আর ইনভেস্টিং মানে আপনি পর্যবেক্ষণ করে একটি কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ করেন এবং সেটাকে অনন্তকালের জন্য রেখে দেন।


বইটিকে পুরোটা যদি পড়ে দেখা হয় তাহলে চারটি মূল কথা বইটি থেকে পাওয়া যায়। যেগুলো প্রত্যেকটা ইনভেস্টরদের অবশ্যই জানা উচিত,-


01) Don't Speculate, Only Invest: 

আপনাকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং পুরো ব্যাপারটা ছানবিন করে তারপরে টাকা লাগাতে হবে। শুধুমাত্র শেয়ার প্রাইস এর উপর ভিত্তি বা শুধুমাত্র আন্দাজ করে কিন্তু কখনোই টাকা লাগানো যাবেনা। এক্ষেত্রে যদি আপনি বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে না পারেন, তাহলে টাকা না লাগলেও চলবে। কিংবা বছরে একটিমাত্র কোম্পানিতে টাকা লাগালেও চলবে কিন্তু শুধুমাত্র আন্দাজের ভিত্তিতে কিন্তু একদমই টাকা লাগানো উচিত। আন্দাজ এর ভিত্তিতে আপনি কয়েকবার Profit করলেও বেশিরভাগ সময় কিন্তু আপনাকে loss বহন করতে হবে। সে কারণে ইনভেস্ট করার আগে সঠিক' কোম্পানি খোঁজা অনেক জরুরী।


02) Mr. Market:

এই বইয়ে মিস্টার মার্কেট নামে একটা কনসেপ্ট দেওয়া রয়েছে। বেঞ্জামিন গ্রহাম শেয়ারবাজারকে মিস্টার মার্কেটকে একজন কৃত্তিম ব্যাক্তি বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন এই ব্যাক্তি খুবই moody। অর্থাৎ কখনও কখনও এই ব্যাক্তি ডিপ্রেশনে থাকে। তাই এই দিন সব শেয়ারগুলোর মূল্য কমিয়ে দেয় আর একদম কম দামে কম দামে দিয়ে দেয়। আবার কখনও কখনও এই ব্যক্তির মন খুব ভালো থাকে তাই প্রত্যেকটা শেয়ারের দাম অনেক বেড়ে যায়। বেশিরভাগ সময় ইকোনমিক ক্রাইসিস বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে এই ধরনের depressed/fair mindset আসতে পারে Mr. Market এর।


ইনভেস্টরদের বেঞ্জামিন গ্রহাম বলেন, আমাদের সবসময় উল্টোটা ভাবা উচিত যখন মিস্টার মার্কেট depressed থাকবে এবং শেয়ার মূল্য কম দামে বিক্রি করবেন তখন আমাদের সেটগুলো কিনে নেওয়া উচিত আর যখন তিনি খুশি থাকবেন এবং শেয়ার মূল্য বাড়িয়ে দেবেন তখন আমাদের বিক্রি করা উচিত। এইভাবে যদি কাজ করেন তাহলে আপনি মার্কেটে চালাবেন নথবা মার্কেট কিন্তু আপনাকে চালাবে। তাই সঠিক মার্কেট খোঁজার পর সঠিক দাম খোঁজা উচিত এবং কমদামি যতক্ষন না আপনি পাচ্ছেন ততক্ষণ ইনভেস্ট করা উচিত নয়।


03) Margin Of Safety: 

যেকোনো ইনভেস্টরকে ইনভেস্ট করার আগে কোম্পানির সঠিক দাম নির্ধারণ করা উচিত। বর্তমানে কোম্পানির মোট মূল্য কত সেটা জেনে গেলে কোম্পানিতে ইনভেস্ট করা অনেক সহজ হয়ে যায় এবং কোম্পানির মূল্য যতটা হওয়া উচিত সবসময় তার কম মূল্যে কেনা উচিত। ধরুন একটা কোম্পানির মূল্য আপনার ভাষায় নির্ধারিত হয়েছে 100 টাকা এক্ষেত্রে কোম্পানির মূল্য যখন 100 থেকে কমে আসবে তখন আপনার কেনা উচিত। অর্থাৎ 80 টাকা বা 90 টাকায় যদি আপনি ওই কোম্পানিতে ইনভেস্ট করেন, সেক্ষেত্রে 20 টাকা বা 10 টাকা আপনার Margin Of Safety হিসেবে গণ্য হবে। ওয়ারেন বাফেট বলেন আপনার Margin Of Safety যত বেশি হবে আপনার Risk তত কম হবে।


04) IPOs: 

সাধারণত শেয়ার মার্কেটে যে সমস্ত কোম্পানিগুলোর চালনা হয় সেগুলোর দাম নির্ধারিত হয় বাজার অনুযায়ী কিন্তু আইপিও এর সময় যে সমস্ত শেয়ারগুলো কেনাবেচা হয় সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে কোম্পানি নিজে। তাই স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানি তার নিজের মূল্য সব সময় বাড়িয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে আপনি যখন কোম্পানির শেয়ার নিচ্ছেন তাই কোম্পানির সর্বোচ্চ দামি কিন্তু গ্রহণ করছেন। তাই আইপিওর ক্ষেত্রে মার্জিন অফ সেফটি কাজ করছে না বরং উল্টোটা হচ্ছে। তাই আইপিও থেকে দূরে থাকাটাই ভালো।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال

close