কিভাবে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখবেন? কিভাবে মনোযোগ দিয়ে প্রত্যেকটা কাজ করা উচিত?
দুইজন ছাত্রের কথা ধরা যাক। কাল তাদের পরীক্ষা। আজ টিভিতে তাদের দু’জনের প্রিয় টিমের ক্রিকেট ম্যাচ সরাসরি দেখাবে। তবে পরীক্ষায় যদি ভালো করতে হয় তবে তাদের উচিৎ হবে খেলা দেখা বাদ দিয়ে সময়টা পড়ার কাজে লাগানো, যাতে পরদিন পরীক্ষাটা ভালো হয়।
এই দুইজন ছাত্রের একজন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে খেলা দেখা বাদ দিয়ে পড়াশুনা করল।তার পরীক্ষা খুবই ভালো হল। আরেকজন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না। ফলে তার পড়া ঠিকমত হল না, আর তাই তার পরীক্ষাও ভালো হল না। অথচ দু’জনেরই লক্ষ্য ছিল পরীক্ষায় ভালো করা। একজন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে লক্ষ্য অর্জনের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করেছে, আরেকজন করেনি।
শুধু পড়াশুনা নয়, যে কোনও বিষয়েই মানুষ যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে পারে – তবে সে জীবনে অনেক বেশি সফল হতে পারবে।
ব্রায়ান ট্রেসি তাঁর “দি পাওয়ার অব সেল্ফ ডিসিপ্লিন”বইয়ে লিখেছেন, পৃথিবীর ২০ ভাগ মানুষ বাকি ৮০% টাকার মালিক। পৃথিবীর ৮০% মানুষ বাকি ২০% এর জন্য কাজ করে।
এই পোস্টের মাধ্যমে 5টি উপায় দেওয়া হল যার মাধ্যমে আপনি সহজেই নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারবেন।
01) নিজের লক্ষ্য খুঁজে বার করুন: পৃথিবীতে কারণ ছাড়া কোন কিছুই সম্ভব নয়। প্রত্যেকটা জিনিসের প্রত্যেক জিনিসের কিছু না কিছু কারণ রয়েইছে। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষেত্রেও সবথেকে শ্রেষ্ঠ কারণ হলো লক্ষ্য। কোন মানুষ যদি সঠিকভাবে নিজের লক্ষ্য কে নির্দেশ করতে পারে তার কর্মজীবনের 80% অসুবিধা এমনি সমাধান হয়ে যাবে।
লক্ষ্য নির্ধারণ করার জন্য প্রথমে দেখুন আপনি কি কি করতে পারেন, তারপর যে সমস্ত কাজ গুলি করতে পারেন সেগুলো দিনে চার ঘণ্টা করে করার চেষ্টা করুন। যে কাজটা করতে ভালো লাগবে না সেটা ছেড়ে দিন। সবশেষে যে কাজটা টানা চার ঘন্টা করতে ভালো লাগবে, সেই কাজটা টানা 15 দিন 4 ঘন্টা করে করার চেষ্টা করুন। টানা 15 দিন করার পরও যদি আপনার সেই কাজটার প্রতি ভালোবাসা থাকে। সেই কাজ সংক্রান্ত নিজের লক্ষ্য বানান।
02) লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজের নির্দেশ: আপনি যে লক্ষ্য বানিয়েছেন সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য যতগুলো কাজ আপনার করা উচিত সেগুলোর একটা লিস্ট বানিয়ে নিন। যদি আপনার লক্ষ্য হয়ে থাকে একজন সফল MBA হওয়া। তাহলে MBA হওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে কোন কোর্স করতে হবে, গ্রাজুয়েশন এ কত নম্বর পেতে হবে?, কোন কোন সিলেবাস নিতে হবে?, MBA এর no. 1 কলেজ নির্বাচন এবং সেখানে অ্যাডমিশন প্রসেস সবকিছুকে একটা একটা করে স্টেপ হিসেবে একটা জায়গায় লিখে রাখুন। প্রত্যেকটা ধাপ কে আরো ছোট ছোট ভাগে ভেঙে নিন। যেমন গ্রাজুয়েশনের সময় যে নাম্বার পেতে হবে, সেই নম্বর পেতে গেলে কতক্ষণ পড়তে হবে কিভাবে পড়তে হবে। এইভাবে আপনার প্রধান লক্ষ্য কে সামনে রেখে, প্রত্যেকটা কাজকে ছোট ছোট অংশে ভেঙে নিন।
03) মনোযোগী হন: যখন যে কাজটা করছেন তখন সেই কাজের প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অন্য সব কিছুকে দূরে সরিয়ে রাখুন। যেমন আপনি যদি মোবাইলে গেম খেলতে বসেন সেই সময় আশেপাশে থেকে বই খাতা এবং অন্যান্য সব কিছু সরিয়ে দিন। আপনি যদি পড়তে বসেন তাহলে মোবাইল, ল্যাপটপ, খাবারের জায়গা এবং অন্যান্য সবকিছু ছড়িয়ে দিন। যে কাজটা করতে বসেছেন সেই কাজ সংক্রান্ত সমস্ত জিনিস আগে থেকেই নিয়ে বসুন। বারবার কোন কিছুর জন্য যাওয়া-আসা করতে থাকলে মনোযোগ হারাবে।
04) গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রথমে করুন: প্রতিদিনের ধাপে ধাপে ভেঙে নেওয়া কাজগুলোর মধ্যে যে সমস্ত কাজগুলো আপনার লক্ষ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত সেই কাজগুলো সকালে থেকে দুপুরের আগে সেরে ফেলার চেষ্টা করুন এবং যে কাজগুলো লক্ষ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয় সেগুলো দুপুরের পরে করতে পারেন। যেমন আপনার লক্ষ্য যদি একজন সফলতা MBA হওয়া হয়। আপনার দুপুরের আগের কাজ হবে, তার জন্য পড়াশোনা করা। দুপুরের পরে কাজ হবে সেই সংক্রান্ত ধাপ নির্দেশ করা, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্দেশ করা, সেই সংক্রান্ত আরও তথ্য জানা, যাচাই করা ইত্যাদি।
05) মুডের উপর নয় কাজের উপর নির্ভর করা: আপনাকে প্রথমেই ঠিক করতে হবে আপনি কাজের সফল হতে চান নাকি মুডের দ্বারা। প্রতিদিন আপনাকে মাথায় রাখতে হবে মুড হোক না হোক যে কাজটা আজকের জন্য আপনি নির্ধারণ করেছেন সেটা পূরণ করা। কখনোই মুড আনার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলিতে যাবেন না। এক গবেষণা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নোটিফিকেশন চেকের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় গেলে, গড়ে 23 মিনিট ব্যয় করে দেয়। আপনি যদি মুড ঠিক করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় যান কতটা সময় নষ্ট হবে আপনি ভেবে দেখুন।
