স্থির বিনিময় হারের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুটি দেশের মধ্যে মুদ্রার বিনিময় হয় তাকেই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বলা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দু'ধরনের, যথা- স্থির বিনিময় হার ও পরিবর্তনীয় বিনিময় হার।
দুটি দেশের মধ্যে স্বর্ণমান অনুযায়ী যখন মুদ্রার বিনিময় হার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও জোগানের দ্বারা নয়। তখন সেই বিনিময় হারকে স্থির বিনিময় হার বলা হয়।
স্থির বিনিময় হারের পক্ষে যুক্তি:
১) বিনিময় হারের স্থায়িত্ব:
যদি বিনিময় হার পরিবর্তনীয় হয় তাহলে রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা তাদের রপ্তানি দ্রব্যর, আমদানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা তাদের আমদানিকৃত দ্রব্যের সঠিক মূল্য পাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়। এর ফলে ভারতবর্ষে উন্নয়নশীল দেশে রপ্তানি বাণিজ্য অনেকটাই হ্রাস পেতে পারে কিন্তু স্থির বিনিময় হার এই ধরনের অনিশ্চয়তা সম্ভাবনাকে দূর করে। বৈদেশিক বাণিজ্যের গতিকে ত্বরান্বিত করা।
২) মুদ্রাস্ফীতি বিরোধী হাতিয়ার:
উন্নয়নশীল দেশগুলির মুদ্রাস্ফীতির দাপটে বা তীব্রতায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভীষণভাবে ব্যাহত হয়। কিন্তু স্থির বিনিময় হার ব্যবস্থা সরকারকে মুদ্রাস্ফীতি বিরোধী হাতিয়ার গুলি গ্রহণ করতে বাধ্য করে এবং দামস্তরে স্থিতিশীলতা।
৩) অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি:
স্থির বিনিময় হারের একটি বড় গুণ হল এটি দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক মূলধনের বাজারে স্থিতিশীলতা আনে। এছাড়া এই ব্যবস্থা অর্থনৈতিক সংগৃহীত সাধনে সাহায্য করে।
স্থির বিনিময় হারের বিপক্ষে যুক্তি:
১) বিনিময় হার নির্ধারণ সমস্যা:
স্থির বিনিময় হার এর একটি প্রধান সমস্যা হল কি হারে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে সে বিষয়ে সমস্যা ও মতান্তর দেখা দিতে পারে।
২) লেনদেন উদ্বৃত্ত ঘাটতি:
যে সমস্ত দেশের স্থায়ীভাবে লেনদেন উদ্বৃত্তের ঘাটতি চলছে এবং সোনাসহ বিদেশী মুদ্রার ভান্ডার ক্রমান্বয়ে কমছে, সেই সকল দেশের পক্ষে স্থির বিনিময় হার অনুসরণ করা যুক্তিসঙ্গত বা কাম্য নয়।
