পরিবর্তনীয় বিনিময় হারের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুটি দেশের মধ্যে মুদ্রার বিনিময় হয় তাকেই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বলা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দু'ধরনের, যথা- স্থির বিনিময় হার ও পরিবর্তনীয় বিনিময় হার।
বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মধ্যে যখন চাহিদা ও জোগানের দ্বারা বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারিত হয়। তখন তাকে পরিবর্তনীয় এবং নমনীয় বিনিময় হার বলে।
পরিবর্তনীয় বিনিময় হার এর পক্ষে যুক্তি:
১) লেনদেনের উদ্বৃত্ত সমস্যা সমাধান:
নমনীয় বিনিময় হার লেনদেন উদ্বৃত্তের ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান করে থাকে। যখন কোনো একটি দেশে লেনদেনের হিসাবে ঘাটতি দেখা দেয়, তখন দেশীয় মুদ্রার মূল্য কমে যায়। ফলে দেশটির রপ্তানি বৃদ্ধি করার নীতি অবলম্বন করে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার।
২) স্বাধীন আর্থিক নীতি গ্রহণ:
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নমনীয় হলে যে কোনো দেশ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বাধীন আর্থিক নীতি গ্রহণ করতে সমর্থ হয় এবং দ্রুত বৈদেশিক মুদ্রা সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বেকার সমস্যার সমাধানে অধিক মনোনিবেশ করতে পারে।
পরিবর্তনীয় বিনিময় হারের বিপক্ষে যুক্তি:
১) ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি:
বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে পরিবর্তিত হলে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বৈদেশিক দেনাপাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
২) ফটকা কারবার এর ব্যাপক সম্ভাবনা:
পরিবর্তনীয় বিনিময় হারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি হল এই যে ফটকা কারবার বৈদেশিক বিনিময় এর জন্য চাহিদা ও যোগানের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
