লেনদেনের হিসাব বা উদ্বৃত্ত সর্বদায় শূন্য হয়- বিবৃত করো

 

লেনদেনের-হিসাব-বা-উদ্বৃত্ত-সর্বদায়-শূন্য-হয়-বিবৃত-করো

লেনদেনের হিসাব বা উদ্বৃত্ত সর্বদায় শূন্য হয়- বিবৃত করো

অধ্যাপক কিন্ডেল বেরজার এর মতে কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে এক দেশের অধিবাসীদের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অধিবাসীদের যাবতীয় অর্থনৈতিক লেনদেন এর ধারাবাহিক হিসাবকে লেনদেনের হিসাব বা উদ্বৃত্ত বলা হয়। এক কথায় বলা যায় লেনদেনের হিসাব হল কোনো একটি দেশের আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্ষিপ্ত রূপ মাত্র। কোম্পানির ব্যালেন্স শিট এর মতো লেনদেনের হিসাবেরও দু'টি দিক রয়েছে। একটি হলো পাওনার দিক এবং অপরটি হল দেনার দিক। উভয় দিকের চারটি করে খাত বা দফা রয়েছে। সেগুলি হল,

পাওনা:

১) দৃশ্য রপ্তানি

২) অদৃশ্য রপ্তানি

৩) প্রতিদানহীন পাওনা

৪) মূলধনী প্রাপ্তি


দেনা:

৫) দৃশ্য আমদানি

৬) অদৃশ্য আমদানি

৭) প্রতিদানহীন দেনা

৮) মূলধনী দেনা


বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে দ্রব্যসামগ্রীর রপ্তানি, আমদানি-রপ্তানি আমদানি খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সেবা সামগ্রীর আমদানিকে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সামগ্রিক রপ্তানিকে অদৃশ্য রপ্তানি-আমদানি খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমন- বিদেশ থেকে কোনো যুদ্ধ জাহাজ ভাড়া নিলে তা দৃশ্য আমদানি খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আবার বিদেশে যুদ্ধ জাহাজ ভাড়া দিলে অদৃশ্য রপ্তানিখাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিদেশ থেকে প্রাপ্ত উপাহারকে প্রতিদানহীন পাওনা খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আবার বিদেশের দেশীয় ব্যক্তিদের দ্বারা প্রদান বা উপহারকে প্রতিদানহীন দেনা খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


 উপরের ছক অনুযায়ী ১, ২, ৩, ৫, ৬ এবং ৭ নং দশা গুলি কে একত্রে লেনদেনের হিসেবে চলতি খাত বলা হয়। অন্যদিকে বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণ করলে বা বিদেশের প্রদেয় ঋণ সুদসহ আসল পরিশোধজনিত অর্থের আগমন ঘটলে ও বিদেশের সম্পত্তি বিক্রি করলে মূলধনী প্রাপ্তির ঘরে ধরা হয়। অন্যদিকে বিদেশে ঋণ প্রদান করলে বা বিদেশের কাছ থেকে গৃহীত ঋণের সুদ আসল পরিশোধ করলে বা বিদেশের থেকে সম্পত্তি ক্রয় করলে মূলধনী দেনার উৎপত্তি ঘটে। ছক অনুযায়ী ৪ এবং ৮ নং দফাকে মূলধনী খাত বলা হয়।


কোম্পানির ব্যালেন্স শিট এর ন্যায় লেনদেনের হিসাবের ক্ষেত্রেও যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তাকে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি বলে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী দেনা- পাওনা উভয় দিক সর্বদায় সমান হয়। এটি নিতান্তই গাণিতিক বা আনুষ্ঠানিক বা যান্ত্রিক প্রক্রিয়া মাত্র। এর অর্থ এই নয় যে, দেশটির লেনদেনের ভারসাম্য রয়েছে।


কোম্পানির ব্যালেন্স শিট এর ন্যায় লেনদেনের হিসাবের পাওনা দিকের যোগফল এবং দেনা দিকের যোগফল সব সময় সমান হয়। তাই বলা হয়ে থাকে যে, লেনদেনের হিসাব সর্বদায় সমান বা উদ্বৃত্ত শূন্য হয়ে থাকে।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال

close