লেনদেন হিসাব ঘাটতি দূরীকরণের উপায়
যেকোনো দেশের লেনদেন হিসাবে সমতার অর্থ এই নয় যে, ওই দেশটির লেনদেনের হিসাবে ভারসাম্য রয়েছে। যদি কোনো দেশের সোনাসহ বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার ক্রমাগত কমতে থাকে এবং দেশীয় মুদ্রা বিদেশি মুদ্রা সাপেক্ষে অবমূল্যায়ন ঘটতে থাকে। তবে বোঝা যায় দেশটির লেনদেন হিসাবে ঘাটতি রয়েছে। লেনদেনের এই ঘাটতি অর্থ এই যে, বিদেশি মুদ্রা আগমন এর তুলনায় বিদেশি মুদ্রার বহির্গমন অধিক হওয়া। যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ, তাই সরকারকে ঘাটতি দূরীকরণের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি দূরীকরণের জন্য সরকার মূলত দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করে। ১) আর্থিক পদ্ধতি এবং ২) আর্থিক নীতি বহির্ভূত পদ্ধতি
১) আর্থিক পদ্ধতি:
লেনদেন হিসাবে ঘাটতি ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণের জন্য সরকার দুটি আর্থিক পদ্ধতি গ্রহণ করে। যথা- a) মুদ্রার অবমূল্যায়ন পদ্ধতি এবং b) বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ।
a) মুদ্রার অবমূল্যায়ন পদ্ধতি:
বিদেশি মুদ্রা সাপেক্ষে দেশীয় মুদ্রার মূল্য হ্রাস পাওয়াকে অবমূল্যায়ন বলা হয়। দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন এর ফলে দেশীয় পণ্য-দ্রব্য বিদেশি বাজারে সস্তা হয়ে যায় এবং বিদেশী পণ্য দেশীয় বাজারে দামি হয়। ফলে লেনদেনের হিসাব ভারসাম্যহীনতা দূর হয়।
b) বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ:
সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার এর উপর সরকার যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তাকেই বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ বলা হয়। অনেক সময় লেনদেনের ঘাটতি পূরণ করার জন্য বিদেশ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে হয় কিন্তু এই পথ সবসময় গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই ১৯৭২ সালে লেনদেনের ঘাটতি পূরণের জন্য বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন(FERA) চালু করা হয়।
২) আর্থিক নীতি বহির্ভূত পদ্ধতি:
লেনদেনের হিসাব ঘাটতি ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণের জন্য আর্থিক নীতি বহির্ভূত পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এই পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য হল,
a) রপ্তানি সম্প্রসারণ:
লেনদেনের হিসাব ভারসাম্যহীনতার দূরীকরণের জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হল বিদেশের বাজারে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা। রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য ভারত সরকার রপ্তানিকারীদের বিশেষ সুবিধা দানযোগ্য- রপ্তানি অঞ্চল গঠন, রপ্তানি বোর্ড গঠন ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
b) আমদানি নিয়ন্ত্রণ:
আমদানি নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারত সরকার বেশ কিছু পণ্যের ওপর আমদানি কোটা আরোপ করেছিলেন। আবার একই সঙ্গে বেশ কিছু পণ্যের উপর উচ্চহারে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এর ফলে আমদানির পরিমাণ কমে আসে এবং বিদেশি মুদ্রা তহবিল স্ফীত হয়।
