কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ঋণের সম্প্রসারণ বা সংকোচন করে থাকে, যা অর্থব্যবস্থাকে অশুভ দিকে পরিচালিত করতে পারে। তাই প্রয়োজন হয় ঋণ নিয়ন্ত্রণের। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হল এই ঋণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ন্ত্রণকর্তা। ঋণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে হাতিয়ারগুলি অবলম্বন করে থাকে, তাকে ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বা আর্থিক নীতি বলা হয়। এই উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সমস্ত হাতিয়ারগুলি অবলম্বন করে থাকে, সেগুলি নিম্নরুপ দেওয়া হল।
১) ব্যাংক রেট
২) খোলা বাজারের কার্যকলাপ
৩) নগদ সংরক্ষিত অনুপাত এর পরিবর্তন
৪) মার্জিন বা জামিনের নিয়ন্ত্রণ
৫) প্রত্যক্ষ অনুরোধ
কেন্দ্রিয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলি বিস্তারিত আলোচনা করা হল:
১) ব্যাংক রেট:
ব্যাংক রেট হল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার জন্য যে সুদের হার ধার্য করে থাকে, তাকেই ব্যাংক রেট বলা হয়। অর্থ ব্যবস্থায় মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতি দেখা দিলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক রেট কমিয়ে দেয়। এটি একটি দ্বিমুখী অস্ত্র।
২) খোলা বাজারের কার্যকলাপ:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন নিজ উদ্যোগে ঋণপত্র কেনাবেচা করে থাকে, তখন তাকে খোলা বাজারের কার্যকলাপ বলা হয়। মুদ্রাস্ফীতির সময় তার নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ঋণপত্র বিক্রি করে আবার মুদ্রা সংকোচন এর সময় ঋণপত্র ক্রয় করে থাকে। এটিও একটি দ্বিমুখী অস্ত্র।
৩) নগদ সংরক্ষিত অনুপাত এর পরিবর্তন:
প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে তাদের সংগৃহীত আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট জমা রাখতে হয়। একে নগর সংরক্ষিত অনুপাত বলা হয়। মুদ্রাস্ফীতির অবস্থা দেখা দিলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অনুপাতটি বাড়িয়ে দেয় আবার মুদ্রাসংকোচ সময়ে এটি কমিয়ে দেয়।
৪) মার্জিন বা জামিনের নিয়ন্ত্রণ:
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জামিনের বিরুদ্ধে ঋণ দিয়ে থাকে। বন্ধকীকৃত সম্পত্তির বাজার মূল্য এবং প্রদত্ত ঋণের পার্থক্যকে মার্জিন বলা হয়। মুদ্রাস্ফীতির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মার্জিনটি বাড়িয়ে দেয় আবার মুদ্রাসংকোচ সময়ে এই হারটি কমিয়ে দেয়।
৫) প্রত্যক্ষ অনুরোধ:
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন মেনে চলতে বাধ্য থাকে। দেশীয় মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রাসংকোচন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রত্যক্ষ আদেশ জারি করতে পারে।
অবশেষে, উপরে উল্লিখিত হাতিয়ার গুলি কার্যক্রমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই হাতিয়ার গুলি একে অপরের পরিপূরক, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।
